Home » খাদ্য ও পুষ্টি

খাদ্য ও পুষ্টি

কাজু বাদাম খাওয়ার ৫টি উপকারিতা

nut

বেশিরভাগ মানুষই কাজু বাদাম খেতে পছন্দ করে। আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং মিনারেলে সমৃদ্ধ কাজু বাদাম। কাজু বাদাম ব্রাজিলে উৎপন্ন হত।

পর্তুগিজরাই এটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয় এবং ১৬শ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে নিয়ে আসে। কিডনি বা শিমের বীচির আকৃতির কাজু বাদামের প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। আজ সেই উপকারিতাগুলো সম্পর্কেই জেনে নিই চলুন।

১। হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে

কাজু বাদামে ভালো ফ্যাট থাকে এবং এতে কোন কোলেস্টেরল থাকেনা। খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল এর মাত্রা কমতে সাহায্য করে কাজু বাদাম। অনেকেই মনে করে থাকে চর্বি গ্রহণ বাদ দেয়াটা শরীরের জন্য ভালো, কিন্তু এই কথাটি আসলে সত্যি নয়।

সুস্থ দেহের জন্য খাদ্যের সকল ধরণের গ্রুপ থেকেই এমনকি ফ্যাট থেকেও পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। ভালো উৎস থেকে তা গ্রহণ করতে হবে যেমন- কাজু বাদাম। তাছাড়া কাজুতে অলেইক এসিড থাকে যা হার্টের জন্য অনেক উপকারি।

২। শক্তিশালী হতে সাহায্য করে

কাজু বাদাম ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ যা শক্ত হাড়ের জন্য, মাংসপেশী ও স্নায়ুর সঠিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। আমাদের শরীরে দৈনিক ৩০০-৭৫০ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন হাড়ের মধ্যে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য।

৩। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

এই বাদামটিতে সোডিয়াম কম থাকে এবং পটাসিয়াম বেশি থাকে। যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৪। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

কাজু বাদামে সেলেনিয়াম থাকে এবং ভিটামিন ই থাকে যা ফ্রি র‍্যাডিকেলের জারণ প্রতিরোধ করে। যার ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাজুতে প্রচুর জিংক থাকে বলে ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

৫। শরীরের বিভিন্ন কাজের প্রধান ভূমিকা পালন করে

যেহেতু কাজুতে উচ্চমাত্রার কপার থাকে তাই এনজাইমের কাজে, হরমোনের উৎপাদনে এবং মস্তিস্কের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও লাল রক্ত কণিকার উতপাদনেও সাহায্য করে বলে অ্যানেমিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে।

যেহেতু কাজুতে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি থাকে তাই দৈনিক ৫-১০ টা কাজু বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে এবং মাইগ্রেনের সমস্যা হয় যাদের তাদের না খাওয়াই ভালো। বিভিন্ন ধরণের কাজু বাদাম পাওয়া যায় যেমন- লবণাক্ত, সিদ্ধ বা মশলাযুক্ত। হাইপারটেনশনের রোগীদের সল্টেড কাজু না খাওয়া ভালো।

খেজুর খাওয়ার ৮টি উপকারিতা

date

আমারা সাধারণত মনে করি মিষ্টি যেকোন খাবার স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু খেজুর এমন একটি শুকনো, মিষ্টি ফল যা আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। খেজুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রচুর বলে খেজুর খাওয়া ভালো, বিশেষ করে শীতের দিনে।

খেজুরে  অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান যেমন- ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ন্যাচারাল গ্লুকোজ এবং ফাইবার থাকে যা শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। খেজুর খেলে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায় বলে মুসলিম সম্প্রদায় ইফতারের সময় খেজুর খায়। শীতের সময়েও কেন খেজুর খাবেন সে কারণগুলো জেনে নিই চলুন।

১। উষ্ণতা প্রদান করে

খেজুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফাইবার, ভিটামিন ও ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস। এটি শরীরকে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে বলে শীতের সময়ে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

২। ঠান্ডা নিরাময়ে সাহায্য করে

যদি আপনি ঠান্ডার সমস্যায় ভোগেন তাহলে ২-৩ টি খেজুর, কয়েকটি গোলমরিচ এবং ১-২ টি এলাচ পানিতে দিয়ে সিদ্ধ হতে দিন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দ্রবণটি পান করুন। এটি ঠান্ডা নিরাময়ে সাহায্য করবে।

৩। অ্যাজমা ভালো করে

অ্যাজমা এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা যা শীতের সময়ে বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ১-২ টি খেজুর খেলে অ্যাজমা সমস্যা বৃদ্ধি পায় না।

৪। শক্তি বৃদ্ধি করে

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকে বলে তাৎক্ষণিকভাবে পেতে সাহায্য করে। যখনই আপনার শক্তি বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হবে তখনই কয়েকটি খেজুর খেয়ে নিতে পারেন।

৫। কোষ্ঠকাঠিন্য

খেজুর ফাইবারে সমৃদ্ধ। একগ্লাস পানিতে কয়েকটি খেজুর ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে ভেজানো খেজুরগুলোকে পিষে নিন এবং এই সিরাপটি খালি পেটে পান করুন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করবে।

৬। হৃদপিন্ডের জন্য ভালো

খেজুর ফাইবারে সমৃদ্ধ বলে হৃদপিন্ডকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। এটি হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে থাকতে সাহায্য করে বলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রতিরোধ হয়, বিশেষ করে শীতের সময়ে।

৭। আরথ্রাইটিসের জন্য ভালো

খেজুরে প্রদাহরোধী উপাদান আছে। এজন্য খেজুর খেলে আরথ্রাইটিসের ব্যথা কমে যা শীতের সময়ে খুব সাধারণ একটি বিষয়। তাই প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খেতে পারেন।

৮। ব্লাড প্রেশার কমায়

খেজুর ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ, এই দুটি উপাদান রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন ৫-৬টি খেজুর খেতে পারেন।

ফুলকপির অসাধারণ উপকারিতা!!!

flower

ফুলকপি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজিগুলোর একটি যা ক্রুসিফেরি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এতে পানির পরিমাণ থাকে ৮৫% এবং খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে।  কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্য ফাইটোকেমিক্যাল ও থাকে। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এই বহুমুখী গুণ সম্পন্ন সবজিটি কাঁচা, সেদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়। চলুন জেনে নিই ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে।

১। হৃদ-স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে

ফুলকপিতে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন থাকে যা ব্লাড প্রেশারের উন্নতিতে সাহায্য করে। গবেষণা মতে সালফোরাফেন ডিএনএ এর মিথাইলেশনের সাথে সম্পর্কিত যা কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং জিনের সঠিক প্রকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, বিশেষ করে ধমনীর ভেতরের প্রাচীরের। সালফোরাফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। অন্য এক গবেষণায় জানা যায় যে, ফুলকপির সাথে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ে ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

২। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়

ফুলকপিতে আরেকটি উপকারী যৌগ কোলাইন থাকে। কোলাইন একটি বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের উন্নয়নে সাহায্য করে। প্রেগনেন্সির সময়ে ফুলকপি গ্রহণ করলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। গবেষণায় নির্দেশ করা হয়েছে যে, জ্ঞানীয় কাজের, শিক্ষার এবং স্মৃতির উন্নয়নে সাহায্য করে কোলাইন।

৩। শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে

ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীর পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে গ্লুকোসাইনোলেটস থাকে যা এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং ডিটক্স হতে সাহায্য করে।

৪। প্রদাহ কমায়

ফুলকপিতে ইন্ডোল ৩ কার্বিনোল বা I3C থাকে যা একটি অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান।এটি শক্তিশালী ইনফ্লামেটরি রিঅ্যাকশন প্রতিরোধ করে।

৫। হজমের উন্নতি ঘটায়

যেহেতু ফুলকপি ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেহেতু এটি হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ডস হেলদিয়েস্ট ফুডস এর মতে, ফুলকপি পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে এবং পাকস্থলীর প্রাচীরে এর আবদ্ধ হওয়াকে প্রতিহত করে।

৬। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

ফুলকপিতে ভিটামিন সি, বিটাক্যারোটিন, কায়েম্ফেরোল, কোয়ারসেটিন, রুটিন, সিনামিক এসিড সহ আরো অনেক উপাদান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করে এবং টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি হওয়া প্রতিহত করে।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.